কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের ওপর নতুন সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১৯ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, “ইরানের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। তেহরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এখন চলছে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে যে এমন একটি সমঝোতা হতে যাচ্ছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য “খুবই গ্রহণযোগ্য” হবে।
ট্রাম্প বলেন, গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তি না হলে যুক্তরাষ্ট্র “যেকোনো মুহূর্তে পূর্ণমাত্রার বড় হামলা” চালাতে প্রস্তুত রয়েছে।
এদিকে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে “কৌশলগত ভুল ও ভুল হিসাব” না করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম অধিকার স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন পক্ষ ইরানকে একটি মাত্র পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তরের শর্ত দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ইরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা চালানোর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জবাবে ইরান ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও মাঝেমধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। একইসঙ্গে ইরান এখনো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যার ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত গ্যাস পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
এমএ//