দেশজুড়ে

গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তি

চট্টগ্রামে জনসমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণার মধ্যে শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে, জুলাই অভ্যুত্থানের গ্রাফিতি মোছা নিয়ে এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ জনসমাবেশ এবং মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ ঘোষণা করে

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে নগরীর টাইগার পাস মোড়ে কিছু শিক্ষার্থী জুলাইয়ের গ্রাফিতি আঁকার জন্য জড়ো হলে এ ঘটনা ঘটে।

এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় বলেন, ‘দুপুরে কিছু শিক্ষার্থী নগরীর টাইগারপাস এলাকায় জুলাইয়ের গ্রাফিতি অংকন করতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। তাদের আঘাতও করে। কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে। উপস্থিত শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর টাইগার পাস এলাকায় মেট্রোপলিটন অধ্যাদেশের ৩০ ধারা জারি আছে। তা অমান্য করে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিচয়ে ৫০-৬০ জন জড়ো হয়েছিল।পুলিশ তাদের সরে যেতে বললেও তারা সরেনি। পরে সরিয়ে দিতে গেলে তারা পুলিশের গায়ে রঙ মারে। যারা রঙ মেরেছিল, তাদের কয়েকজন হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

এর আগে চট্টগ্রামের ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুছে ফেলার অভিযোগ করে এনসিপিএর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির পক্ষ থেকে গতকাল রাতে জুলাই গ্রাফিতি আঁকার কর্মসূচি দেওয়া হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন গ্রাফিতি অংকন করেন।

রাতে সিটি করপোরেশন যাওয়ার সড়কে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দারসহ বিভিন্ন লেখা লেখেন। এরপর ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে তার প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করেন। তারা লেখাগুলো মুছে দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো গ্রাফিতি মোছা হয়নি। এ ধরনের কোনো নির্দেশ আমি কখনো দিইনি, ভবিষ্যতেও দেব না। জুলাই-আগস্টের চেতনা আমি ধারণ করি। দীর্ঘ ১৭ থেকে ১৮ বছর ধরে আমি আন্দোলনের মাঠে আছি। যারা জুলাই-আগস্টে আন্দোলন করেছে, আমি অবশ্যই তাদের সম্মান করি

তিনি বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে পোস্টার অপসারণ করেছে। তারা জানিয়েছে, সেখানে গ্রাফিতি নয়, মূলত পোস্টার ছিল। পোস্টারের আড়ালে থাকা কিছু গ্রাফিতি দৃশ্যমান ছিল না। এখনো অনেক পিলারে সেই গ্রাফিতি রয়েছে, চাইলে দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রাফিতি আঁকার জন্য বৈষম্যবিরোধীর ছেলেরা এসেছে। তিনি তার তরফ থেকে গ্রাফিতি অঙ্কনের জন্য সহায়তা প্রদান করেছেএমন নয় যে শুধু আজকে, কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই তিনি তাদের সাহায্য সহযোগিতা করে আসছেন

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #চট্টগ্রাম #গ্রাফিতি