আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পাবনায় কোরবানির পশু প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ৩৩ হাজার ৪০টি খামারে এবার মোট ৬ লাখ ৫৩ হাজার ৫৮৮টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
জেলায় কোরবানির সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭২টি পশু। চাহিদা পূরণের পর অতিরিক্ত পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
খামারিরা জানান, গরু দ্রুত বড় করতে এবং ভালো মানের মাংস নিশ্চিত করতে সুষম খাবার ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি জাতের লাল, সাদা ও কালো গরু এবার কোরবানির বাজারে তোলা হবে। ৫০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় কেনা অনেক গরু এবার কয়েক লাখ টাকায় বিক্রির আশা করছেন খামার মালিকরা।
খামারি সোহান বলেন, প্রকৃত খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করছেন। তবে পশুখাদ্যের দাম কম হলে তারা আরও বেশি লাভবান হতে পারতেন।
আরেক খামারি বাচ্চু জানান, তার খামারে তাজা ঘাস, ভুট্টা, গমের ভুসি, খেসারির ভূষি ও রান্না করা খাবার দিয়ে গরু পালন করা হয়। তিনি সরাসরি খামার এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পশু বিক্রি করেন।
খামারি আল আমিন বলেন, বিদেশ থেকে গরু আমদানি কম হলে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ বিভাগের আরও সক্রিয় সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এদিকে পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর জানিয়েছে, খামারিদের প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ট্রেনিং অফিসার ডা. কৃষ্ণ মোহন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে যাতে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা যায়।
এমএ//