রাশিয়ার পার্ম অঞ্চলে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শিল্প স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়ে ইউক্রেন। হামলার পর শহরের কয়েকটি এলাকায় রাসায়নিক জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়, যদিও স্থানীয় প্রশাসন পরে এটিকে “পরীক্ষামূলক মহড়া” বলে দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রকাশিত দ্য মস্কো টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পার্ম অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মাখোনিন জানান, সকালে একাধিক শিল্প স্থাপনা হামলার শিকার হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত জরুরি সেবা বিভাগের সদস্যদের মোতায়েন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কারখানার কর্মীদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শহরের আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া দেখা গেছে। নাসার স্যাটেলাইট চিত্রেও পার্ম শহরের ওপর দীর্ঘ ধোঁয়ার রেখা শনাক্ত হয়েছে, যা প্রায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত বলে উল্লেখ করা হয়।
রুশ ও ইউক্রেনীয় বিভিন্ন টেলিগ্রাম চ্যানেলের দাবি, হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে লুকওয়েল পরিচালিত একটি তেল শোধনাগারও ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, লাউডস্পিকারে প্রচার করে বাসিন্দাদের ঘরের বাইরে না যেতে, জানালা বন্ধ রাখতে এবং ফুটানো পানি পান করতে বলা হয়। কয়েকজন বাসিন্দা বাতাসে তীব্র রাসায়নিক গন্ধ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন।
এর আগের দিনও পার্মের আরেকটি শিল্প এলাকায় ড্রোন হামলার পর আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। একই সময়ে কাজাখস্তান সীমান্তবর্তী ওরেনবুর্গ অঞ্চলেও শিল্প স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ট্রান্সনেফটের একটি তেল পাম্পিং স্টেশনে হামলা চালিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ অভিযানকে রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার নতুন কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়ে মস্কোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই এসব হামলা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলছে, ইউক্রেন এখন আরও সমন্বিত ও দূরপাল্লার হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে, যা রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
এমএ//