আন্তর্জাতিক

দক্ষিণ ইরানে একাধিক বিস্ফোরণ, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তেহরানের পাল্টা হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, সিরিক ও জাস্ক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার দাবি করেছে।

বুধবার (১০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

ইরানের তাসনিম ও মেহর সংবাদ সংস্থার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বন্দর আব্বাস ও আশপাশের এলাকায় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তবে কী কারণে এসব বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সিরিক জেলার বেমানি এলাকায় হামলায় দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইনে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। 

আইআরজিসির দাবি, সংঘর্ষ এখনও চলছে। মার্কিন হামলা অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার ও একটি কমান্ড সেন্টার রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

এদিকে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র তারা আকাশেই ভূপাতিত করেছে। এতে কোনো হতাহত বা সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দেশটির সেনাবাহিনী বলেছে, আকাশসীমা সুরক্ষায় তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হয়েছে।

অপরদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান চালিয়েছে। তাদের দাবি, একটি মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত হওয়ার পর এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও নজরদারি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র