আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রে ২ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তায় হত্যা !

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নিহতরা হলেন জামিল লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। তারা ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘারবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আদালতের নথির বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন আবুঘারবে এআই চ্যাটবট চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘গাড়ির ভিআইএন নম্বর কি পরিবর্তন করা যায়?’ এবং ‘লাইসেন্স ছাড়া কি বাড়িতে বন্দুক রাখা যায়?’

এরপর ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতের ঠিক পরপরই আবুঘারবিয়ে এআই চ্যাটবটকে জিজ্ঞেস করেন, হিলসবরো রিভার স্টেট পার্কে গাড়ি ‘চেক করা হয় কি না’। এই স্টেট পার্কটি ট্যাম্পার ঠিক উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত। একই রাতে, সন্দেহভাজনের ফোনের অবস্থান সংকেত সেই সেতুর স্থানে ধরা পড়ে যেখানে লিমনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়।

পিনেলাস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের অফিসের ময়নাতদন্তে দেখা যায়, লিমনের দেহে অসংখ্য কাটা ও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, ‘একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের’ কারণে তার মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

আদালতের নথিতে আরও বলা হয়েছে, আবুঘারবের শরীরেও অসংখ্য কাটা দাগ রয়েছে। তার বাম ও ডান পায়েও আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রকাশিত নতুন আদালতের নথিতে জানা যায়, বৃষ্টি ও লিমন নিখোঁজ হওয়ার আগের দিনগুলোতে চ্যাটজিপিটিকে মরদেহ লুকিয়ে রাখার উপায় সম্পর্কে প্রশ্ন করেছিলেন আবুঘারবে।

নথি অনুযায়ী, গত ১৩ এপ্রিল সন্দেহভাজন ওই যুবক চ্যাটজিপিটিকে জিজ্ঞাসা করেন, যদি কাউকে ‘কালো আবর্জনার ব্যাগে ভরে ডাম্পস্টারে ফেলে দেয়া হয়’ তাহলে কী হবে। এআই চ্যাটবটটি জবাবে বলে, বিষয়টি বিপজ্জনক শোনাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ফ্লোরিডার ট্যাম্পার কাছে একটি সেতুর ওপর থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #যুক্তরাষ্ট্র #ফ্লোরিডা #শিক্ষার্থী হত্যা #চ্যাটজিপিটি