দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই আবারও আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই পাকিস্তানি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনা আয়োজন করতে চায় পাকিস্তান। তবে ভেন্যু নিয়ে দুই পক্ষের কোনো আপত্তি বা বিকল্প প্রস্তাব থাকলে সেটির ওপরই এই আয়োজন নির্ভর করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রয়টার্স ও এপির তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে এপি জানায়, বৃহস্পতিবারের মধ্যেই দ্বিতীয় দফা আলোচনার দিকে অগ্রসর হতে পারে উভয় পক্ষ।
কর্মকর্তাদের একজন বলেছেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও প্রথম আলোচনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ছিল না। বরং এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ ছিল। দ্বিতীয় দফায় আলোচনার আয়োজক ভেন্যু হিসেবে আবারও ইসলামাবাদকে প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। তবে ওয়াশিংটনের পছন্দে জেনেভা থাকতে পারে।
যদিও ভেন্যু ও দিনক্ষণ এখনও নির্ধারিত হয়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য উভয় পক্ষ নতুন করে মুখোমুখি আলোচনার কথা বিবেচনা করছে।
‘ইসলামাবাদ সংলাপের’ পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। পাকিস্তানও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। ওই প্রস্তাবে তারা পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে রাজি হওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও কঠোর। যুক্তরাষ্ট্র চায়, তেহরান যেন অন্তত ২০ বছরের জন্য তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকে।
এসি//