পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের আগমুহূর্তে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (এজেউপি) প্রধান হুমায়ুন কবিরের একটি ‘গোপন’ ভিডিও নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় চলছে।
গেল বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে কথিত এই ‘স্টিং অপারেশন’-এর ভিডিও প্রকাশ করে তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, মুসলিম ভোট ভাগাভাগি করে বিজেপিকে সুবিধা দিতে বিজিপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কোটি কোটি টাকার গোপন চুক্তি করেছেন হুমায়ুন।
তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর।
১৯ মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, হুমায়ুন কবীরকে একজনের সঙ্গে নির্বাচনি কৌশল নিয়ে আলোচনা করছেন। সেখানে বলেছেন, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার গোপন সমঝোতা হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিধানসভা নির্বাচনে এজেউপি ৭০-৮০টি এবং বিজেপি ১০০-১২০টি আসনে জিতলে তিনি সরকার গঠনে বিজেপিকে সহায়তা করবেন। বিনিময়ে তিনি পাবেন উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ। ভিডিওতে তিনি আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
ভিডিওতে হুমায়ুন কবির আরো বলেন, ‘মুসলিমদের বোকা বানানো খুব সহজ... এই কারণেই আমি জেনেশুনে বাবরি মসজিদ নাম বেছে নিয়েছি।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন হুমায়ুন কবীর। তৃণমূলের অভিযোগ, ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ভোট কেনাবেচা করতেই হুমায়ুন এই পরিকল্পনা করেছেন।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ বলেছেন, ভিডিওতে হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন তিনি ১০০০ কোটি টাকা পেয়েছেন। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকা আগাম পেয়েছেন। তিনি এই ঘটনাটি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘মুসলিমদের আবেগকে পণ্য বানিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন হুমায়ুন কবীর। তাকে সমাজ থেকে বহিষ্কার করব।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তার সম্মানহানির চেষ্টা চলছে। তৃণমূল এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে ২ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা করবেন। ১০০০ কোটি তো দূরের কথা, ১ কোটি টাকার চুক্তির প্রমাণ দিতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিবেন।
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে দুই ধাপে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৪ মে এই নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এই নির্বাচনে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল এআইএমআইএম-এর সঙ্গে জোট বেঁধেছে হুমায়ুন কবিরের দল।
তৃণমূলের অভিযোগ, মুসলিম ভোট কাটাকাটি করে বিজেপিকে জেতাতেই ‘বি’ এবং ‘সি’ টিম হিসেবে এই দলগুলো মাঠে নেমেছে। উল্লেখ্য, হুমায়ুন কবীর এর আগে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয় দলের হয়েই রাজনীতি করেছেন।
এমএ//