জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে সাবেক এএসআই আমীর হোসেন ও কনস্টেবল সুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পান। তাদের মধ্যে সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ও এসআই নয়নের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সাবেক ভিসি হাসিবুর রশিদকে ১০ বছর, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছর এবং আরও কয়েকজন প্রশাসনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয় ২০২৫ সালের ২৪ জুন। পরে একই বছরের ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩০ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের পর ৬ আগস্ট বিচার শুরুর আদেশ দেয়া হয় এবং ২৭ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
মামলায় শহিদ আবু সাঈদের বাবা মুকুল হোসেনসহ মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন এবং আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর জবানবন্দি মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করে বলে প্রসিকিউশন জানায়।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। পরবর্তীতে যুক্তিতর্ক শেষে ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়। পরবর্তী ধাপে ৫ মার্চ রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয় এবং আজ (৯ এপ্রিল) চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হলো।
এসি//