আন্তর্জাতিক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের হামলা, চতুর্থ দিনে নিহত বেড়ে ৬১১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’, আর ইসরাইল দিয়েছে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। অভিযানের মূল লক্ষ্য ইরানের বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)–কে ধ্বংস করা।

হামলার জবাবে দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে ইরান। ইসরাইলসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দাবি করেছে, শনিবারের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির প্রায় ৫০ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ সময় খামেনির বাসভবনে হামলায় তার স্ত্রী, কন্যা ও জামাতার মৃত্যুর কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি একটি মেয়েদের স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রায় ১৫৩ জন নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে বিবিসি।

ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, যৌথ হামলায় ইরানে অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় দেশটির ৩১টি প্রদেশের ১৩১টি শহরে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবন, হাসপাতাল এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার কেন্দ্রগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে জানা গেছে।

পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ—যেমন দুবাই, দোহা, কুয়েত সিটি, জর্ডান (আম্মান) এবং বাহরাইন–এ অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই হামলায় অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত এবং কয়েকটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে মর্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, অভিযানটি চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক অভিযানের সবচেয়ে শক্তিশালী আঘাত এখনও আসা বাকি।

ইসরাইল নিশ্চিত করেছে যে ইরানের হামলায় তাদের অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলবিরোধী সামরিক অভিযানে যুক্ত হয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

সোমবার (০২ মার্চ) ইসরাইলকে লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালায় সংগঠনটি, যার জবাবে ইসরাইলের পাল্টা হামলায় লেবাননে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

এছাড়া ইরানের হামলায় কুয়েত–এ দুইজন, সংযুক্ত আরব আমিরাত–এ তিনজন, ইরাক–এ দুইজন এবং বাহরাইন–এ অন্তত একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, তেল ও গ্যাসের দাম দ্রুত বাড়ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল ও বাণিজ্য কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #ইসরাইল #হামলা