সব জল্পনা কল্পনাকে উড়িয়ে দিয়ে দিব্যি বেঁচে আছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেই সঙ্গে ইরানে হামলা সম্পর্কে দিয়েছেন বার্তাও। তিনি বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধ কোনো দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের জন্য নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথ উন্মুক্ত করার একটি ধাপ হতে পারে। নেতানিয়াহু উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধকে ঘিরে যে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, বাস্তবে পরিস্থিতি তার ঠিক উল্টো।
মঙ্গলবার (০৩ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, এই সংঘাত ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তার মতে, আব্রাহাম চুক্তির আওতায় ইতোমধ্যে চারটি আরব দেশের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার অগ্রগতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রভাব কমাতে যৌথ কৌশল গ্রহণের বিষয়েও তিনি ইঙ্গিত দেন।
নেতানিয়াহু আরও বলেন, এই সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ কতদিন চলবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি মন্তব্য করেন, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে ইরান–এর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর, যা ইঙ্গিত দেয় যে লক্ষ্য হতে পারে দেশটির শাসন কাঠামোয় পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করা।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর প্রশংসা করে বলেন, ট্রাম্প সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ় এবং স্পষ্ট অবস্থান নেন।
এদিকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলমান সামরিক অভিযান আরও প্রায় চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ইরানের ভূখণ্ড বড় হলেও শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত থাকলে চার সপ্তাহের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্যের দক্ষতা এবং আধুনিক সামরিক শক্তি দ্রুত ও নির্ভুল হামলার সুযোগ দিলেও, ইরানের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক কাঠামো এবং দীর্ঘদিনের মতাদর্শিক ভিত্তি কেবলমাত্র শীর্ষ নেতৃত্ব অপসারণের মাধ্যমে পরিবর্তন করা সহজ নয়।
এসি//