পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের আরও পাঁচ কর্মকর্তার বেতন সর্বনিম্ন স্তর বা গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
গত বছরের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশনার পর মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) অত্যন্ত গোপনীয়তা ও সতর্কতার সঙ্গে এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে বিএসইসি।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৭ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে এবং পাঁচজনের বেতন সর্বনিম্ন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৬ মার্চ এ ঘটনায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত গানম্যান আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী এ ঘটনায় তদন্ত ও বিভাগীয় মামলাও হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত পরিচালনার পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য ও সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে মোট ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসইসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই ২৩ কর্মকর্তার মধ্যে ২২ জনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপর একজন কর্মকর্তা এর আগেই অন্য একটি অভিযোগে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
শাস্তির আওতায় আসা একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবারই বিএসইসির পক্ষ থেকে তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। তবে বাধ্যতামূলক অবসর ও বেতন কমানোর আনুষ্ঠানিক চিঠি বুধবার ১৯ আগস্ট তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে গিয়ে চিঠি গ্রহণ করেন।
এর আগে গত বছরের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের চার ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে সেনাবাহিনী গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই অবস্থান কর্মসূচিতে যান।
পরে তারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরার পাশাপাশি তৎকালীন কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন। এ ঘটনার জেরে বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিও পালন করেন। কয়েক দিন ধরে সংস্থাটিতে এ নিয়ে অস্থির ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তৎকালীন চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এবং সাবেক কমিশনার মো. মহসিন চৌধুরী, মো. আলী আকবর ও ফারজানা লালারুখের উপস্থিতিতে নির্ধারিত সভাকক্ষে বৈঠক চলছিল। এ সময় অভিযুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অন্যরা জোরপূর্বক সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএসইসির মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও লিফট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এমনকি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সেখানে অরাজকতা ও ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল।
ঘটনার পর দায়ের হওয়া মামলা, সরকারি তদন্ত ও বিভাগীয় কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
এসি//