কমবে বৃষ্টি, বাড়বে রোদ-গরমের তীব্রতা
বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকা মানুষকে এবার পেতে হতে পারে রোদের দেখা। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় ধীরে ধীরে বাড়তে পারে রোদের দাপট। সঙ্গে বাড়বে ভ্যাপসা গরমও। আগামী ৮ থেকে ১০ দিন দেশে বৃষ্টির প্রবণতা ও পরিমাণ কমে যাওয়ার পাশাপাশি দিনের বেশিরভাগ সময় রোদ থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম—বিডব্লিউওটি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দেওয়া পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও দিনের প্রায় পুরো সময়ই রোদ থাকতে পারে। দিনভেদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা রোদের দেখা মিলতে পারে।
বিডব্লিউওটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলায় গরমের তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, পাবনা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াপাড়া, যশোর, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, ঢাকা, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর, নীলফামারী ও আশপাশের এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। দু-একটি এলাকায় তা সাময়িকভাবে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও উঠতে পারে।
তবে বৃষ্টি একেবারে বিদায় নেবে না। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে। খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও চট্টগ্রামের তুলনায় রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
১৩ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু এলাকায় দিনে গড়ে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে। এ সময়ে গড়ে ২ থেকে ৪ দিন দুপুর, বিকেল বা রাতে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। তবে এসব বিভাগের অনেক জেলায় ৪ থেকে ৬ দিন বৃষ্টিহীন থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
অন্যদিকে, খুলনা, ঢাকা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে বৃষ্টির প্রবণতা আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি রোদের তীব্রতা বাড়তে পারে। আগামী ৯ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এসব বিভাগের বেশিরভাগ জেলায় বিরতি দিয়ে গড়ে ৫ থেকে ৭ দিন পুরোপুরি বৃষ্টিহীন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অল্প সময়ের জন্য বজ্রবৃষ্টি হলেও এর আগে ও পরে দিনের বড় একটি সময় রোদ ও ভ্যাপসা গরম থাকতে পারে।
কৃষকদের জন্যও এই আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রোদের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করার জন্য সময়টি বেশ উপযোগী হতে পারে বলে জানিয়েছে বিডব্লিউওটি। বিশেষ করে যেসব কৃষকের ধান কাটার উপযুক্ত হয়েছে, তারা স্থানীয় আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সময়ের মধ্যে ধান কাটার কাজ এগিয়ে নিতে পারেন। কারণ মাসের শেষ দিকে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। ফলে তুলনামূলক শুষ্ক এই সময়টি কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
দেশের বেশিরভাগ এলাকায় রৌদ্রোজ্জ্বল ও তুলনামূলক ভালো আবহাওয়া থাকায় পর্যটকদের জন্যও সময়টি অনুকূল হতে পারে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা, কুয়াকাটা, কক্সবাজার, সুন্দরবন ও হাওরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণের জন্য এ সময়কে উপযোগী মনে করছে সংস্থাটি।
সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে বিডব্লিউওটি জানিয়েছে, বর্তমানে সাগরে থাকা লঘুচাপটি আজ রাত থেকে দুর্বল হয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে। তবে ১৯ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সাগরে নতুন করে লঘুচাপ বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সাগর আবারও উত্তাল হয়ে উঠতে পারে।
এ কারণে সাগরে যাওয়ার আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পরিস্থিতি জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম।
এসি//