ইসরাইলের নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান ও ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট। তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তাকে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ সরকারে নিজের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সব দলকে রাখার শর্ত দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন না করতে আইজেনকটকে সতর্ক করেছেন নেতানিয়াহু।
এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, আরব দলগুলো সন্ত্রাসবাদে সমর্থন দেয়। এসব দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করা হলে ইসরাইলের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামাসের সমর্থকদের নিয়ে গঠিত সরকার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে লড়াই করবে না। এমনকি গাজা ও লেবাননে থাকা ইসরাইলি সেনাদের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারবে না।
জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এমন সরকারে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অর্থাৎ বেজালেল স্মোটরিচ ও ইতামার বেন-গভিরের মতো কট্টর ডানপন্থি নেতাদেরও সরকারে রাখতে হবে। তবে ঐক্যের সরকার হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, সে বিষয়ে ভিডিও বার্তায় কিছু বলেননি তিনি।
নেতানিয়াহু আরও অভিযোগ করেন, আরব দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠন করা হলে ইসরাইলে গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
তার দাবি, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ইসলামপন্থিদের কারণে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ইসরাইলেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে।
তবে নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাবের বিষয়ে আইজেনকটের অবস্থান ভিন্ন। এর আগেই তিনি স্পষ্ট করেছেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট সরকার গঠন করবেন না।
এর আগে গত শনিবার (০৭ নভেম্বর) রাতে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নতুন সরকার গঠনের জন্য গাদি আইজেনকটকে মনোনীত করেন। নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেন তিনি। রোববার (০৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আইজেনকটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দেন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, নির্বাচনের পর সরকার গঠন নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে। প্রথমে তিনি ডানপন্থি সরকার গঠনের কথা বলেছিলেন। পরে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন। সর্বশেষ তিনি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চার দলের জোট ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট হারজগ। এতে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকটের পক্ষে সমর্থন জানান। তাদের মধ্যে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সদস্যরাও ছিলেন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন ৪৬ জন আইনপ্রণেতা।
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। জোট গঠনের জন্য তাকে পার্লামেন্টের অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।
আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন পেলে আইজেনকটের পক্ষে ৬৭ আসনের সমর্থন পাওয়া সম্ভব। তবে এসব দলের সঙ্গে সরাসরি সরকার গঠনে তিনি আগ্রহী নন। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর জোটের সব দলকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। ফলে আইজেনকট কোন পথে সরকার গঠনের চেষ্টা করেন, তা নিয়ে ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
এসি//