দেশজুড়ে

ছেলের কাছে হত্যার হুমকি পেয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন মা

কুড়িগ্রাম উত্তর প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় মাদক মামলায় পাঁচ মাস জেল খেটে বেরিয়ে এসে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে রাজু মিয়ার (২২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এক নারী।

সোমবার (২ নভেম্বর) ওই নারীকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দিয়েছেন ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে, বড় ছেলের স্ত্রী ও নাতিকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন নাসিমা। তাঁর বড় ছেলে রাজু মিয়া (২২) মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদকের টাকার জন্য মায়ের ওপর নির্যাতন এবং বাড়ির আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করতেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় এক বছর আগে অভিযুক্ত রাজুর স্ত্রী সন্তান ও স্বামীকে রেখে ঢাকায় চলে যান।

এ অবস্থায় চলতি বছরের ২ জুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে রাজুকে ১০০ টাকা জরিমানা ও পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক।

স্বজনরা জানান, রাজু জেলে যাবার পর তার ছোট ভাই লিমন ভয়ে ঢাকায় চলে যান। এর মধ্যে পাঁচ মাস জেল খেটে রোববার মুক্তি পেয়েই মোবাইলে মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন রাজু। কোনো উপায় না পেয়ে মা নাসিমা নাতিকে নিয়ে ওইদিনই বাপের বাড়ি পাইকের চড়া চলে যান।

নাসিমা বেওয়া বলেন, ছেলের ভয়ে নিজের বাড়িতে ফিরতে পারছি না। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রোববার রাতে থানায় গেলে আমাকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে যেতে বলা হয়। সোমবার দুপুরে ইউএনওর কার্যালয়ে গেলে আবার থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। রাজু আমাকে পেলে মেরে ফেলবে। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই।’

ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ বলেন, খবর পেয়ে রোববার রাতে তিনি ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু রাজু কারও কথা শুনতে চান না। মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি ঘরের তালা ও বেড়া ভেঙে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাজু মাঝেমধ্যে আত্মহত্যার হুমকিও দেন।

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন বলেন, “উনি (নাসিমা) এসেছিলেন কিনা আমি কোর্টে থাকার কারণে জানি না। উনি আসলে জিডি গ্রহণ করা হবে।”

এমজে/এ

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #কুড়িগ্রাম #ছেলে