সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪৩) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন- উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের প্রয়াত মাহতাব উদ্দিন খানের ছেলে মোক্তার হোসেন খান (৫৩) এবং নাজিরের ঘের গ্রামের রহিম বক্স মোল্লার ছেলে আসাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৬)। তবে মামলায় প্রধান আসামি উপজেলার পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক আমিনীকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন।
তিনি বলেন, ঘটনার শুরু থেকে পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার পর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল সানা বলেন, ধর্ম অবমাননার অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় সঠিক তদন্ত পূর্বক আসামিদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবদুস সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন শামীম। বিষ পানে আত্মহত্যার চেষ্টার পর চিকিৎসার জন্য তাকে সেখানে নেওয়া হয়েছিল। সেদিন অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনী শামীমের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন এবং লোকজনকে জড়ো হওয়ার উসকানি দেন। এরপর একদল লোক চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে শামীমের ওপর প্রথম দফায় হামলা চালায়।
তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় রাত ৯টার দিকে দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাত ১০টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ওয়াহিদুজ্জামান শামীম মাদ্রাসা থেকে কামিল পাসের পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ৮ বছর ও ৭ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে তার। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে তিনি অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তার চিকিৎসা চলছিল।
আই/এ