জাতীয়

অসদাচরণ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বায়ান্ন প্রতিবেদন

অসদাচরণ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বিরুদ্ধে বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আদেশ দুটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এস এম মেহেদী হাসান ডিএমপির ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

দীর্ঘ সময় অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী এটি ‘পলায়ন’ হিসেবে গণ্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ অধিদপ্তর।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১৯ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগনামা ও অভিযোগের বিবরণী দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি কোনো জবাব দেননি এবং সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি।

অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় বিষয়টি তদন্তের জন্য ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এরপর চলতি বছরের ৪ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হলে কমিশনও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

এর ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে এস এম মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী গাজীপুরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকার সময় ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে দুই মাসের বিশ্রামে যান। বিশ্রাম শেষে ১১ এপ্রিল তার কর্মস্থলে ফেরার কথা থাকলেও তিনি আর কাজে যোগ দেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তার বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিন অনুমোদন ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকাকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং অসদাচরণ ও ‘পলায়ন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ অধিদপ্তর থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়।

বিধি অনুযায়ী কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জবাব দেননি। সময় বাড়ানোর জন্যও কোনো আবেদন করা হয়নি। পরে অভিযোগ তদন্তে একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে দেওয়া প্রতিবেদনে মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রেখে সরকারি কর্মকমিশনের পরামর্শ চাওয়া হয়। কমিশনও তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে অসদাচরণ ও ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পুলিশ #অসদাচরণ #পলায়ন #অভিযোগ #বরখাস্ত