ক্যাম্পাস

১৮তম বিজেএসে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ শিক্ষার্থী

জাককানবি প্রতিনিধি

১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের চার শিক্ষার্থী।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ফলাফলে তাদের এ সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তরা হলেন আইন ও বিচার বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মোছা. ফারজানা ফেরদৌসী, শরিফুল ইসলাম ও সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের নূরজাহান আক্তার।

সাফল্যের অনুভূতি প্রকাশ করে সুস্মিতা সরকার বৃষ্টি বলেন, এই অর্জন এখনো তার কাছে অনেকটা স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। তবে নিজের পরিশ্রম ও সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস তাকে সবসময় আত্মবিশ্বাসী রেখেছে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর ২০২৪ সাল থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গভাবে বিচার বিভাগীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। অ্যাডভোকেটশিপ সনদ অর্জনের পর পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ এই পথচলায় তার বাবা-মা, ভাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকমণ্ডলী এবং বন্ধুদের সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে তিনি সহপাঠী ও বিচারক আবু সাঈদ এবং বন্ধু জ্যোতি, মেহেরিমা ও সুমির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা সবসময় তাকে মানসিকভাবে সমর্থন দিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুস্মিতা বলেন, বিচার বিভাগীয় পরীক্ষার মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কেবল মেধা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায় ও নিয়মিত অনুশীলন। নেতিবাচকতা এড়িয়ে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে অধ্যয়ন চালিয়ে যেতে হবে এবং নিজের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে পরিকল্পিতভাবে সেগুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। তিনি বলেন, প্রস্তুতির পথে হতাশা আসতেই পারে, কিন্তু থেমে না থেকে বারবার নতুন উদ্যমে ফিরে আসাই সাফল্যের চাবিকাঠি।

আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আসাদুজ্জামান নিউটন বলেন, বিভাগের চারজন শিক্ষার্থী সিভিল জজ/জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়া আইন ও বিচার বিভাগের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন দায়িত্বে তারা ন্যায়বিচার, সততা, নিরপেক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধকে ধারণ করে দেশের বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

তিনি সফল শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাদের এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে যারা এবার সফল হতে পারেননি, তাদের হতাশ না হয়ে আরও দৃঢ় প্রত্যয় ও উন্নত প্রস্তুতির মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা দেশের বিচার বিভাগে সহকারী জজ নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত একটি অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক রাষ্ট্রীয় পরীক্ষা। এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রার্থীরা বিচার বিভাগে সিভিল জজ (জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়