দেশজুড়ে

৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের ভূমিকা দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করে : বিদ্যুৎ মন্ত্রী

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

 বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন,  ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। ওই সময় সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিভক্তি ও দেশের অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা দেশের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন,  ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনা ও সেনাবাহিনীর ভেতরে নানা ধরনের টানাপোড়েন চলছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব সেনাবাহিনীতেও পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের সাহসী ভূমিকার পালন করেন।  

স্বাধীনতার পর দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করে টুকু বলেন, সে সময় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নানা অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সীমিত করার ঘটনাকে তিনি মানুষের ক্ষোভ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তৎকালীন পরিস্থিতির কিছু মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের শাসনামল প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের দায়িত্ব পালনকালে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর কাছে গুরুত্ব পেয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সম্মান নিশ্চিত করতে তাঁদের অবদান ও আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি প্রয়োজন।  

৭ নভেম্বরের ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন বলেন, সেদিন সেনাসদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তাঁর মতে, ওই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ অন্যভাবে এগোলে বাংলাদেশের ইতিহাসও ভিন্ন হতে পারত।

জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা এবং মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তাঁর বিদ্রোহী ভূমিকা তাঁকে মানুষের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর গ্রহণযোগ্যতার পেছনে এসব বিষয় ভূমিকা রেখেছিল।

জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম শাহীন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহীদুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল।

আলোচনা সভায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

আই/এ

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিদ্যুৎ মন্ত্রী