আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি হলেও সার্বভৌমত্ব ছাড়বে না গ্রিনল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন হবে না—যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে এমন আশ্বাস দিয়েছে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ পাবে। তবে ঠিক কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানায়, গ্রিনল্যান্ডে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি চুক্তিতে তারা সম্মত হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বীপটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ কোনো দেশ যাতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও থাকবে।

তবে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ঠিক কতটা হবে, কিংবা পররাষ্ট্রনীতি ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিষয়ে ওয়াশিংটনকে কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা দেওয়া হবে কি না—এসব বিষয়ও পরিষ্কার নয়।

আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় চুক্তিটি সই হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড আশা করছে, এই চুক্তির মাধ্যমে কয়েক মাস ধরে চলা অনিশ্চয়তার অবসান হবে। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের একাধিক হুমকির পর থেকেই এই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লক্কে রাসমুসেন বলেন, আগামী সপ্তাহটি গ্রিনল্যান্ড, ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, অনিশ্চয়তার সময় শেষ হয়ে এমন একটি বাধ্যতামূলক চুক্তি হবে, যা আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং ন্যাটো ও ইউরোপের যৌথ নিরাপত্তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ডেনমার্কের নির্ধারিত সীমারেখাও এতে সম্মান করা হবে।

ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড এর আগে একাধিকবার জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রকে সম্মান করতে হবে এবং গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।

তবে শুক্রবার রাতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ‘চিরস্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ সক্ষমতা’ পাবে।

ট্রাম্প আরও বলেন, এই চুক্তি গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ দেবে।

তার দাবি, ওয়াশিংটনের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো প্রতিপক্ষ দেশকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি বা সামরিক উপস্থিতি স্থাপনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এমনকি স্পর্শকাতর বিনিয়োগও করা যাবে না।

রয়টার্সের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে—এমন খবর প্রকাশের পরই ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেন শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে থাকায় তিনি সন্তুষ্ট।

তার মতে, এই চুক্তি শুধু সম্মিলিত নিরাপত্তার জন্য নয়, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

নিলসেন বলেন, চুক্তিতে ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্বীকৃতি রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও এতে স্বীকৃত হয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি চলতি বছরের জানুয়ারিতে সবচেয়ে বেশি তীব্র হয়। এর পর ন্যাটোর অভ্যন্তরে সম্পর্কের টানাপোড়েন বাড়ে এবং ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসে।

শনিবার ন্যাটোর এক মুখপাত্র চুক্তিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও সহযোগিতা বাড়াতে সহায়তা করবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #গ্রিনল্যান্ড #যুক্তরাষ্ট্র #ডেনমার্ক