রাজনীতি

‘আমাকে মব করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল’: ফজলুর রহমান

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

‘আমাকে মব করে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল’—নিজের জীবনের ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা স্মরণ করে এমন মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরাম আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ফজলুর রহমান বলেন, ‘যখন তারা বলতে লাগলো মুক্তিযুদ্ধই নাকি হয় নাই, মুক্তিযোদ্ধাদের মাফ চাইতে বললো, এর ঠিক তিন দিন পর আমি বলেছিলাম, এই রাজাকার-আলবদরের বাচ্চারা, মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু হইছে।’

নিজের ওপর হামলার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাকে মেরে ফেলার এমন কোনো চেষ্টা নাই যা তারা করে নাই। একদিন ভোরবেলা আমার স্ত্রী আমাকে ঘুম থেকে উঠালো। আমার বাড়িটা তারা চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছিলো। মব করে আমায় মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলাম মৃত্যুকে গ্রহণ করার জন্য। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। সেদিন ১০ মিনিটের মধ্যে এসে তারা আমায় উদ্ধার করেছিলো।’

কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘কবি কাজী নজরুল বারবার অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে গেছেন। নজরুলের এই চেতনাই হলো ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। যেখানে আমরা সাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদকে পরাজিত করে সকল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করেছি। নজরুল একজন সত্যবাদী ও প্রকৃত মানুষ। তাই তিনি মরে গিয়েও হাজার বছর বেঁচে থাকবেন তার এই চেতনার জন্য।’

ধর্ম ও রাজনীতি প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে বেহেশত-দোজখের টিকিট বিক্রি করা হয়। আর কেউ কিনতে না চাইলে তাকে খারাপ বানিয়ে দেওয়া হয়। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, রাজনীতি, ধর্ম এবং ধর্মব্যবসা এক নয়। আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা লেখাপড়া করছেন তারা এ বিষয়টা মানবেন যে, আমি সত্য কথা বলব, ন্যায়ের পথে চলব, আল্লাহ-রাসুলের দেখানো পথে চলব, কিন্তু ধর্মব্যবসা করব না।’

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উম্মে কুলসুম বেগম, কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব মামুন সরকার। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।

নবীনবরণ শেষে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ধ্বনি মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ফজলুর রহমান #কিশোরগঞ্জ-৪