দেশজুড়ে

ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী ও পরকিয়া প্রেমিকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জের আলোচিত যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলার প্রায় ১১ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অপরাধে নিহতের স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি ও তার প্রেমিক মনিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুজনকেই এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। টাকা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারক লায়লা শারমিন এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার রায়ে তিথি ও মনিরুল দোষী সাব্যস্ত হলেও অপর দুই আসামি রাশেদুল ইসলাম ও পিয়াস হোসেনকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় মনিরুল আদালতে ছিলেন। তবে তিথি পলাতক থাকায় তাকে আদালতে পাওয়া যায়নি।

তবে রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি নিহতের পরিবারের সদস্যরা। আদালত চত্বরে জড়ো হয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন।

নিহত সুজনের ভাই আরিফুর রহমান বলেন, তার ভাইকে ঘুমন্ত অবস্থায় নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তারা সর্বোচ্চ শাস্তির প্রত্যাশা করেছিলেন। পাশাপাশি দুই আসামি খালাস পাওয়ায় তারা অসন্তুষ্ট।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১ জুন রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজন। ওই সময় তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর নিহতের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিথি ও তার ভাই পিয়াসের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছিল।

তদন্তের পর পুলিশ তিথি ও পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তী সময়ে মামলার তদন্তে মনিরুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলামের নামও সামনে আসে এবং তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বিচার চলাকালে তিথি ও মনিরুল আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিথি ও মনিরুলের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই সুজনকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ ও উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সিরাজগঞ্জ #যাবজ্জীবন