পটুয়াখালীর কলাপাড়ার মৎস্য অবতরন কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারনে দেখা দিয়েছে তীব্র বরফ সংকট। প্রতিনিয়ত ১২ থেকে ১৪ ঘন্টা লোডশেডিংয়ের কারনে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেকটা কম হওয়ায় দ্বিগুন হয়েছে বরফের দাম। ১৫০ টাকার বরফের ক্যান বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়। তারপরও পাওয়া যাচ্ছেনা বরফ। তাই বরফ সংকটে মাছ শিকারে যেতে পারছেনা শত শত মাছধরা ট্রলার।
সোমবার (১০ আগস্ট) কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা অপু সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইলিশের ভরা মৌসুম হওয়া সত্ত্বেও গত এক সপ্তাহ ধরে বরফের অভাবে সাগরে যেতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেসহ মৎস্য সংশ্লিষ্টরা। তারা মৎস্য বন্দরগুলোতে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবারহের জোর দাবি জানিয়েছেন।
জেলে শুকুর আলি বলেন,আগে বিদ্যুৎ এমন ছিলনা, আগেই ভালো ছিলাম, এখন বিদ্যুৎ প্রায়ই থাকেনা,বরফও তৈরি হচ্ছে কম । তার ওপর দ্বিগুন দামে বরফ বিক্রি করছেন বরফ কল মালিকরা।
ট্রলার মালিক জাফর মিয়া বলেন, ‘এক দিকে সাগরে মাছ পড়ে কম, সংসার এর প্রয়োজনে সাগরে যাবো তাও বরফের অভাবে যেতে পারছিনা। জেলেরা ঘাটে বসে বসে খাচ্ছে।সঠিকভাবে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবী জানাই’।
মহিপুর গাজী আইস প্লান্টের মালিক মো. মজনু গাজী বলেন, প্রতিদিন ১২/১৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকে,তাতে বরফ কলে উৎপাদনে ব্যহত হচ্ছে। জেনারেটর দিয়ে বরফ উৎপাদন করায় খরচ বেশি হচ্ছে,তাই দামও আগের চেয়ে বেড়েছে। বরফ উৎপাদন কম হওয়ায় শতশত মাছধরা ট্রলার মহিপুর -আলীপুর ঘাটে বসে আছে। আমরা সরকারের কাছে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাই।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, বিদ্যুৎের সমস্যা সারা দেশব্যাপী। তারপরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপ হয়েছে যাতে মৎস্য বন্দরে আপাতত ভিন্নভাবে বিদ্যুৎের ব্যবস্হা নেয়া যায় কিনা। আর বরফের দামের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছেন ভোক্তাঅধিকারের মাধ্যমে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান বলেন,বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বরফ তৈরিতে সমস্যা হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎের ডিজিএমের সাথে আলোচনা করে মৎস্য বন্দরের জন্য আলাদা ব্যবস্হা নেয়ার চেষ্টা চলছে। জেনারেটর চালিয়ে বরফ উৎপাদন করায় দাম বেড়েছে। তবে সেটিয যেন যৌক্তিক পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে নজরদারি চলছে।
আই/এ