মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানে নতুন করে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলার জাবাবে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানায়, ইরানের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এই অভিযান ‘শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অবস্থানে হামলা চালায়। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
এদিকে অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্পকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
কয়েক দিনের তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতির পর আবারও সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। উভয় পক্ষ সাময়িকভাবে হামলা বন্ধ রেখে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও ইরান সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে—এমন দাবি অস্বীকার করেছে।
বুধবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এবার আমাদের পালা। আমরা কঠোর জবাব দেব। তারা জানে কী আসছে এবং আমাদের তা না করতে অনুরোধও করেছে।’
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসনের’ জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে তিনটি তেলবাহী জাহাজেও হামলার দাবি করেছে তারা।
গেল শুক্রবার টানা ১৩ রাতের বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে অভিযান স্থগিত করেছিল। তবে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আবারও হামলা শুরু হয়েছে।
এমএ//