বাংলাদেশের বাজারে শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ডের মধ্যে ৪টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০টি থেকে সর্বোচ্চ ১৪০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশবিষয়ক গবেষণা সংস্থা ‘এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (এসডো) এক বছরের গবেষণা ও সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে এ তথ্য জানায়।
এসডোর প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুদের জন্য পরীক্ষিত ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে কুডুমু আল্ট্রা শিল্ড ফর্মুলা ব্র্যান্ডে সবচেয়ে বেশি, প্রতি ১০০ গ্রামে ১৪০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। এছাড়া মেরিল বেবি স্ট্রবেরিতে ৬০টি, মেরিল বেবি অরেঞ্জে ৪০টি এবং পেপসোডেন্ট কিড অরেঞ্জে ২০টি প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, শিশুদের জন্য আমদানিকৃত কুডুমু অরেঞ্জ এবং দেশে উৎপাদিত প্যারাসুট জাস্ট ফর বেবি (ম্যাঙ্গো) টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শুধু শিশুদের টুথপেস্ট নয়, বাজারে বিক্রি হওয়া দেশি-বিদেশি মোট ৩৪টি টুথপেস্ট পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মিলেছে। এসব টুথপেস্টে প্রতি ১০০ গ্রামে গড়ে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।
গবেষণায় সবচেয়ে বেশি, প্রতি ১০০ গ্রামে ৩২০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে মেডিপ্লাস ফ্লুরাইড জেল টুথপেস্টে। এছাড়া জনপ্রিয় কয়েকটি ব্র্যান্ডের মধ্যে ক্লোজ আপ রেড হট ও ক্লোজ আপ মেন্থল ফ্রেশ— উভয়টিতে ১৬০টি করে, সিগন্যাল গ্রিন টিতে ১২০টি, পেপসোডেন্ট অ্যাডভান্স সল্ট ও হিমালয়া কমপ্লিট কেয়ারে ১০০টি করে এবং সেনসোডাইন ফ্রেশ মিন্টে ৮০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
তবে দেশে উৎপাদিত জেনফ্রেশ এবং ক্লোজ আপ রেড হট জিংক ফ্রেশ টেকনোলজি টুথপেস্টে কোনো প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়নি।
উৎপাদনকারী দেশের ভিত্তিতে বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরীক্ষা করা স্থানীয় ২৫টি ব্র্যান্ডের মধ্যে ২২টিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এছাড়া ভিয়েতনামের পরীক্ষিত দুইটি ব্র্যান্ডের দুটিতেই, থাইল্যান্ডের দুইটির একটিতে এবং ভারতের পাঁচটি ব্র্যান্ডের একটিতে ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি মিলেছে।
গবেষণার পদ্ধতি সম্পর্কে এসডো জানায়, দেশের বিভিন্ন এলাকার দুই হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার মতামত সংগ্রহের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ‘এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরি’তে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। এ পরীক্ষায় আধুনিক স্টিরিও মাইক্রোস্কোপি এবং ফুরিয়ার ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এসি//