গেল বুধবার (২২ জুলাই) অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের সৃজনশীল ও বহুনির্বাচনী উভয় অংশের প্রশ্নপত্রে আবারও একাধিক ভুলের অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতে, এসব ভুল পরীক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের চরম বিভ্রান্তি ও মানসিক চাপের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে যারা প্রতিটি প্রশ্ন গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে সমাধান করতে গিয়েছিল, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এর আগে পদার্থবিজ্ঞান প্রথমপত্রেও বড় ধরনের ভুল থাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে রসায়ন দ্বিতীয়পত্রের প্রশ্নপত্রে যেসব ত্রুটি উঠে এসেছে-
প্রথম সৃজনশীল প্রশ্ন: উদ্দীপকের দ্বিতীয় অংশে একাধিক উৎপাদ তৈরি হলেও নির্দিষ্ট করে কোনোটির ভর ২.৫ গ্রাম বলা হয়নি, যার কারণে জারকের সঠিক ভর বের করা সম্ভব হয়নি।
পঞ্চম সৃজনশীল প্রশ্ন: উদ্দীপকে ‘পাত্র-১’ লেখা থাকলেও ‘গ’ ও ‘ঘ’ প্রশ্নের ভেতর সেটিকে ‘A-পাত্র’ বলা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করেছে।
ষষ্ঠ সৃজনশীল প্রশ্ন: ‘গ’ অংশে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা ও চাপের কথা উল্লেখ না করেই ২৫০ মিলিটার গ্যাস তৈরির মাতৃ যৌগ বের করতে বলা হয়েছে। তাছাড়া ‘ঘ’ অংশে তথ্যের ভিত্তিতে কার্বন ডাই-অক্সাইডের জন্য Z-এর মান ৪.০ আসে, যা বাস্তব গ্যাসের নিয়ম ও তরলীকরণ তত্ত্বের সঙ্গে সম্পূর্ণ অমিল।
অষ্টম সৃজনশীল প্রশ্ন: ‘ঘ’ অংশে ‘ভ্যান ডার ওয়ালস’ সমীকরণকে ‘আদর্শ গ্যাসের সমন্বয় সমীকরণ’-এর পরিবর্তিত রূপ বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, যা তাত্ত্বিকভাবে সঠিক নয়।
এমসিকিউ অংশ: যমুনা (ঘ) সেটের ১০ নম্বর প্রশ্নে কোনো সঠিক উত্তরই ছিল না। শিক্ষকদের মতে, পাঠ্যবইয়ের নিয়মানুযায়ী শুধু তিন নম্বর অপশনটি সঠিক হওয়ার কথা থাকলেও তা এককভাবে অপশনে ছিল না।
এই ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীর মূল্যবান সময় অপচয় হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আন্দাজে বা অনুমাননির্ভর উত্তর দিতে বাধ্য হয়েছে।
পরীক্ষার্থী ইমতিয়াজ নোমান বলেন, প্রশ্ন সমাধান করতে গিয়ে কয়েকটি উদ্দীপক ও তথ্য নিয়ে বিভ্রান্ত হয়েছিলাম। অনেক সময় নিয়েও সমাধান করতে পারিনি। বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নে এমন ভুল হবে তা কেউ ভাবেনি।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান পরিষদের সভাপতি ও রসায়নের শিক্ষক আরিফ হক বলেন, প্রশ্নপত্রে ভুল নতুন নয়। এসব ভুল শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ বাড়ায় ও পরীক্ষা চলাকালে অযথা সময় নষ্ট করে।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো এই ত্রুটিগুলোর কারণে মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, কারণ তারা প্রতিটি তথ্য বিশ্লেষণ করতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট করে ফেলে।
আর/আই