আন্তর্জাতিক

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ঘরছাড়া আড়াই লাখের বেশি মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ ইউরোপে ভয়াবহ দাবানলের তাণ্ডবে ফ্রান্স ও স্পেনে আড়াই লাখের বেশি মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু স্পেনের মধ্যাঞ্চল থেকেই প্রায় ৭০ হাজার বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরোন্দ এলাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে রূপান্তরিত একটি এ৪০০এম কার্গো উড়োজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। একবারে প্রায় ২০ টন পানি বা অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক বহনে সক্ষম এই বিমানটি।

ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, এ৪০০এম ছাড়াও ১৮টি অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টার আগুন নেভানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তবে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

বর্তমানে দাবানল বোর্দো শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থান করছে। তবে বাতাসের দিক পরিবর্তিত হলে আগুন শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগুনের বিস্তার ঠেকাতে পরিখা খনন, অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ছিটানোসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উদ্ধার কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে ফ্রান্স সরকার। পাশাপাশি ধোঁয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে ১৫ লাখ ফেসমাস্ক বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোর্দোর পশ্চিম উপকূল ও আশপাশের শহর-গ্রামের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, দাবানলটি নজিরবিহীন মাত্রা পেয়েছে। আগুন এতটাই তীব্র যে এটি নিজস্ব বায়ুপ্রবাহও তৈরি করছে। তাই মানুষের জীবন রক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বড় দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় ২ হাজার ৬০০ দমকলকর্মী, পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মী কাজ করছেন। তাদের সহায়তায় রয়েছে ১৯টি বিমান ও হেলিকপ্টার।

চলতি বছর স্পেনে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে, যা গত এক দশকের গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে ইউরোপের বনাঞ্চল অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভয়াবহ দাবানল।

এদিকে ফ্রান্স ও স্পেনকে সহায়তা করতে ইতালি, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র ও স্লোভাকিয়া অগ্নিনির্বাপক বিমান ও হেলিকপ্টার পাঠাচ্ছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #দাবানল #ইউরোপ #ফ্রান্স #স্পেন