মধ্যপ্রাচ্যে তেল স্থাপনা ও জাহাজে নতুন করে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) প্রথমবারের মতো এই পর্যায়ে পৌঁছেছে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম।
মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিনশেষে আন্তর্জাতিক বাজারের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া চুক্তির দাম ছিল ৯৭ দশমিক ৮৯ ডলার। বুধবার সকালে তা ২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ২৯ ডলারে ওঠে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআইয়ের দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৭৭ ডলারে পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলা তেলের সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জবাবে তারা পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
এর পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় আগুন লাগার খবরও এসেছে।
তেলের দাম বাড়লে এর প্রভাব সরাসরি পড়ে পেট্রল, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানির দামে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি পরিবহননির্ভর বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে দ্রুত সরবরাহ প্রয়োজন এমন খাদ্যপণ্য এবং দূরপাল্লায় পরিবহন করা আসবাব ও গৃহস্থালি পণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা চলছে। সংঘাতের কারণে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসের বড় একটি সময়ে ব্রেন্টের দাম প্রায় ৭০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছিল। জুলাইয়ে দাম ৭২ থেকে ১০২ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে। পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো নিরাপদে চলাচল করতে পারবে কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হবে কি না—এসব প্রত্যাশার পরিবর্তনেও তেলের দামে ওঠানামা হয়েছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষকেরা মঙ্গলবার এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেছেন, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কোনো চুক্তির সম্ভাবনা কমছে। তাদের মতে, নির্বাচনের পরও এ ধরনের সমঝোতা সহজে নাও হতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার আশঙ্কায় চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তেলের গড় দামের পূর্বাভাস ৮৩ ডলারে উন্নীত করেছে ব্যাংকটি। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে ধীরে ধীরে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাড়তে পারে বলে মনে করছে তারা। বিপরীতে অবরোধ অব্যাহত থাকলে তেলের দাম ৯৫ থেকে ১২০ ডলারে উঠতে পারে। বড় কোনো জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সাময়িকভাবে ১৫০ ডলারেও পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে ব্যাংক অব আমেরিকা।
উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের চাপ এ বছর বিশ্বজুড়ে ভোক্তা, ব্যবসা ও অর্থনীতিতে পড়েছে। ব্যাংক অব আমেরিকার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, রাশিয়ার শোধনাগারে কার্যক্রমে বিঘ্ন, বিভিন্ন অঞ্চলে পরিশোধন কমে যাওয়া এবং জ্বালানি মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় ডিজেল ও পেট্রলের দাম রেকর্ড পর্যায়ের দিকে এগোচ্ছে।
এমএ//