অর্থনীতি

টানা বৃষ্টিতে চড়া সবজির বাজার, বাড়তি মাছ-মাংসের দাম

টানা বৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীর কাঁচাবাজারে বেড়েছে বেশির ভাগ সবজির দাম। সরবরাহ কমে যাওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ভালো মানের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজি দরে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, অল্প কয়েকটি সবজি ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দামই ১০০ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে রাজধানীতে সবজি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না। একই সঙ্গে অতিবৃষ্টিতে বিভিন্ন অঞ্চলের সবজিখেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদনও কমেছে। ফলে বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১২০ টাকা, করলা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঝিঙা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। এক সপ্তাহ আগের তুলনায় এসব সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

লাউয়ের দামও বেড়েছে। আগে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন একটি লাউ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। সাধারণ মানের কাঁচা মরিচের কেজি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা এবং ভালো মানের মরিচ ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

তবে পেঁপে এখনও তুলনামূলক সস্তা। এটি ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গাজরের কেজি ১৬০ টাকা।

বিক্রেতারা জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়বে এবং তখন বাজারও ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে।

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে সবজির পাশাপাশি বেড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষের প্রধান প্রোটিনের উৎস ব্রয়লার মুরগি ও কম দামের মাছের দামও।

বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, সোনালি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি প্রায় ৩৬০ টাকায়।

মাছের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বমুখী দাম। পাঙ্গাসের কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা এবং কই মাছ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, কম আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা খাবারের দাম বাড়তে থাকায় সংসারের খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন খরচ এবং সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক না হলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর খাদ্য ব্যয়ের চাপ আরও বাড়বে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বাজার #বাজারদর #সবজির দাম