যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। এতে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় দরপতন ঘটেছে, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৩ হাজার ৯৮৮ দশমিক ২০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই মূল্যবান ধাতুর দাম সামগ্রিকভাবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মূলত জুনের মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমার তথ্য বাজারে স্বস্তি দিলেও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন উত্তেজনার মুখে তা আর টেকেনি।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সিপিআই ও পিপিআই-এর মতো মূল্যস্ফীতির সূচকগুলো কিছুটা শিথিল হলেও চলতি সপ্তাহে তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি কমার সেই স্বস্তি উপভোগ করতে পারেননি।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় চলতি সপ্তাহে তেলের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। তেলের এই ঊর্ধ্বগতি নতুন করে মূল্যস্ফীতিকে উসকে দিচ্ছে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারও চলতি সপ্তাহে পতনের দিকে এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, ব্যাংক ও বন্ডে সুদের হার বেশি থাকলে সাধারণত বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের মতো অলাভজনক সম্পদ ছেড়ে বেশি মুনাফা পাওয়া যায় এমন খাতের দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির ৭৩ শতাংশ সম্ভাবনা দেখছেন।
আর/আই