কানসাস সিটির মাঠে এক অবিশ্বাস্য রাতে কুরাসাওয়ের নায়ক হয়ে উঠলেন গোলরক্ষক ইলোই রুম। তার দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে ইকুয়েডরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে কুরাসাও।
শনিবার (২০জুন) রাতে ইকুয়েডরে বিপক্ষে মাঠে নামে কুরাসাও। ম্যাচজুড়ে ১৫টি সেভ করে শুধু দলকে পরাজয়ের হাত থেকেই রক্ষা করেননি, বিশ্বকাপের ইতিহাসেও নিজের নাম লিখিয়েছেন নতুন এক কীর্তিতে।
৩৭ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলেন দুর্ভেদ্য। ইকুয়েডরের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের হতাশ করেন তিনি। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপে গোল সেভের পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ে এক ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক টিম হাওয়ার্ড ১৬টি সেভ করেছিলেন, তবে সেই ম্যাচ গড়িয়েছিল অতিরিক্ত সময়ে।
রুমের অর্জনকে আরও বিশেষ করে তুলেছে আরেকটি পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে ক্লিন শিট রেখে কোনো গোলরক্ষক এর আগে এক ম্যাচে এত বেশি সেভ করতে পারেননি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে ইকুয়েডর। অধিনায়ক এননার ভ্যালেন্সিয়া একাধিকবার গোলের সুযোগ তৈরি করলেও প্রতিবারই বাধা হয়ে দাঁড়ান রুম। প্রথমার্ধে কুরাসাও কিছু আক্রমণ সাজালেও শেষ পাস ও ফিনিশিংয়ের দুর্বলতায় এগুলো ফলপ্রসূ হয়নি।
বিরতির পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে ইকুয়েডর। মোইসেস কাইসেদোর দূরপাল্লার শট, ভ্যালেন্সিয়ার হেড কিংবা কর্নার থেকে তৈরি হওয়া একাধিক সুযোগ সবই অসাধারণ দক্ষতায় প্রতিহত করেন রুম। এক পর্যায়ে পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দেন তিনি।
এই ড্র কুরাসাওয়ের জন্যও ঐতিহাসিক। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর ঘুরে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি।
ক্লাব ফুটবলেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী রুম। যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব কলম্বাস ক্রুর হয়ে এমএলএস কাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই গোলরক্ষক বর্তমানে খেলছেন মায়ামি এফসিতে। তবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে তার এই পারফরম্যান্স আবারও প্রমাণ করল, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার বিকল্প নেই।
অন্যদিকে, ইকুয়েডরের জন্য ম্যাচটি ছিল হতাশার। ১৫টি শট লক্ষ্যে রেখেও গোলের দেখা পায়নি দলটি। সমর্থকদের ব্যাপক সমর্থন এবং ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করেও শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের।
পি/ডি