কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি পানির নিচে ডুবুডুবু অবস্থায় রয়েছে। ফলে পাটসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সরেজিমেনে এ চিত্র দেখা যায়। তবে জেলার নদ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং উজানের ঢলে ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অনেক স্থানে কৃষকদের পাট, আমন ধানের বীজতলা, শাক-সবজি ও অন্যান্য মৌসুমি ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
আজ বিকেলে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ধরলা, বারোমাসিয়া ও নীলকমল নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
পশ্চিম ফুলমতি এলাকার পাটচাষি ইউনুস আলী, সামচুল হক ও ছাইদুল ইসলাম জানান, তারা প্রত্যেকে বারোমাসিয়া নদীর তীরে ১ থেকে দেড় বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। মৌসুমের শুরুতেই ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তাদের ভাষ্য, গত পাঁচ-ছয় দিন ধরে তাদের পাটক্ষেত কোমরসমান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় পাটগাছ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কৃষকরা।
শুধু তাদের ক্ষেতই নয়, ওই এলাকার আরও অনেক কৃষকের পাটক্ষেত পানিতে ডুবে রয়েছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমর সমান পানি জমে থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ মিয়া বলেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুম চলায় প্রায় প্রতিদিনই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। বারোমাসিয়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর তীরবর্তী এলাকায় কিছু পাটক্ষেতে হাঁটুসমান, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। কৃষকদের ফসল রক্ষায় মাঠপর্যায়ে গিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজ উদৌল্লা জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
আই/এ