বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই পরিকল্পনায় বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তৃতীয় একটি বিদেশি বা আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ সৃস্টি করা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা খাতে সরকারি খরচ ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে এগিয়ে নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষাব্যবস্থায় দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে একাধিক নতুন কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষা কার্য্যক্রম সংস্কার করে ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা বইয়ে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরে একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত করা হবে। এটি আগামী শিক্ষাবর্ষেই এই অধ্যায় যুক্ত করা হবে।
এদিকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন চারটি বই সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির জন্য ‘খেলাধুলা’ এবং ‘শিল্প ও সংস্কৃতি’ নামে দুটি বই যুক্ত হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরও দুটি নতুন বই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সদস্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মাসুদুল হক জানিয়েছেন, নতুন বইগুলো শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আনন্দময় শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে প্রণয়ন করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির বইগুলো হলো খেলাধুলা ও সংস্কৃতি নিয়ে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি বই যুক্ত হচ্ছে । একটি বইয়ের নাম‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ অন্যটি ‘কারিগরি শিক্ষা’।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।
ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন ব্যবস্থায় জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ রাখা হতে পারে। পাশাপাশি এসব দেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা চালুর পরিকল্পনা করেছে সরকার। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতেই সরকার এই লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
এ ছাড়া নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি বিবেচনায় আছে। পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনা আছে।
পি/ডি