৬০ ঘণ্টা পার হলেও এখনও পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফএর পুশ ইন হওয়া ১০ জন জিরো লাইনে অবস্থান করছেন। ওই জনকে বিএসএফ পুনরায় ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিষয়টি নিয়ে দুই বাহিনীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
রোববার (৭ জুন) দুপুর ১২ টা থেকে একটা পর্যন্ত বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিজিবি মাধুপাড়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, দুপুরে পুশইন হওয়া লোকজনকে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। এসময় কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা জড়িয়ে পড়ে। বিএসএফ, বিজিবিসহ পুশইন হওয়া লোকজনকে সড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি কঠোরভাবে প্রতিহত করে। বিজিবির তীব্র বাধাঁ ও কড়া অবস্থানের কারণে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। পরে ভর দুপুরে সীমান্ত লাইট জ্বালিয়ে দেয় বিএসএফ।
এই ঘটনার পরে দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাড়তি সদস্য মোতায়েন করে। ওই এলাকায় মাইকিং করে বিজিবি । এতে স্থানীয়দের সীমান্তে না যাওয়া এবং বিজিবিকে সহায়তা করতে বলা হয়।
ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফ শূন্যরেখায় সর্তক অবস্থান করছে।
বাড়তি সতর্কতা হিসেবে বিজিবি বাংকারে অবস্থান নিয়েছে। বিকেল তিনটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক। তিনি বিজিবি সদস্যদের সাথে কথা বলে চলে যান।
গত দুই দিনে তিনবার বিওপি, কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতেও কোন সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় মানুষজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিএসএফ অমানবিক আচরণ করছে। তাদের কারণে সীমান্তে পানির মধ্যে ক্ষেতের আইলে ৬০ ঘন্টা ধরে অবস্থান করছে ১০ জন ব্যক্তি । তাদের খাবার সহ পানির তীব্র কষ্ট হচ্ছে।
মাধুপাড়া কোম্পানি কমান্ডার আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমরা বিএসএফের পুশইন ঠেকিয়েছি। কোনভাবেই তাদের আমরা বাংলাদেশে ঢুকতে দিবোনা। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি।
এর আগে, গত শুক্রবার ভোর রাতে বিএসএফ নারী পুরুষ শিশু সহ ১০ জনকে পুশইন করার চেষ্টা করে।
আই/এ