ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মাদরাসার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়েছেন শিক্ষক। ৩৫ দিনেও সন্ধান মেলেনি ওই ছাত্রীর।
গত ৫ জুন অভিযুক্ত শিক্ষক ইকরামুল ইসলামসহ অজ্ঞাত আরও দুইজনকে আসামি করে হরিণাকুণ্ডু থানায় মামলা করেছেন ছাত্রীর বাবা উকিল উদ্দিন।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) অসিত কুমার রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসার শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ওই ছাত্রীকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতেন এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
ঈদুল আজহার দিন সকালে বাড়ি থেকে বান্ধবী সাদিয়ার বাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হন ইভা (১৪)। অনেক সময় পার হলেও বাড়ি না ফেরায় তারা সাদিয়ার বাড়িতে খোঁজ নিতে যান।
এ সময় সাদিয়ার মা জানান, ইভা তাদের বাড়িতে আসেনি। পরে আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, উপজেলার মান্দিয়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে কয়েকজনের সহায়তায় শিক্ষক ইকরামুল ইসলাম জোরপূর্বক ইভাকে মোটরসাইকেলে তুলে ঝিনাইদহ শহরের দিকে নিয়ে যান।
অভিযুক্ত শিক্ষক যশোরের কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে হরিণাকুণ্ডুর শিতলী রোকেয়া খাতুন মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন। ঘটনার পর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে ফোন পাওয়া যায়নি।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
পরিবারের দাবি, মামলা হওয়ার পরও এখন পর্যন্ত তাদের মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের তৎপরতা নিয়ে তারা অসন্তোষ প্রকাশ করে দ্রুত ইভাকে নিরাপদে উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
হরিণাকুণ্ডু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফজলুল হক জাহিদ জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের সম্ভাব্য অবস্থানগুলোতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। তবে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় প্রযুক্তিগতভাবে তাকে শনাক্ত করতে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। ছাত্রীকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পি/ডি