বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কারও চোখ রাঙ্গানিতে জামায়াতে ইসলামী ভয় পায় না। আমাদেরকে মাঝে মাঝে চোখ রাঙানো হয়। কেউ কেউ বলেন, যদি আপনারা এই করেন, ওই করেন; তাহলে আগামীতে এই হবে,সেই হবে। বন্ধু, আমাদেরকে ভয় দেখাবেন না।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য, রাজশাহী বিভাগ এই সমাবেশের আয়োজন করে।
জামায়াত আমির বলেন, যাদের নেতারা হাসতে ফাঁসির তক্তার ওপরে দাঁড়াতে পারে, তাদেরকে কোনোকিছুর ভয় দেখাবেন না। আমাদের নেতৃবৃন্দ রাস্তা রচনা করে গিয়েছেন, জনগণের মুক্তির রাস্তা। এই রাস্তা ধরে আমরা চলতেই থাকব।
তিনি বলেন, ‘গণভোটের রায় বাংলাদেশেই বাস্তবায়ন হবে। বাস্তবায়ন করতে বাধ্য করা হবে, ইনশাআল্লাহ। গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন হয়, তাহলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। নইলে দেশে অতীতের চেয়ে ভয়াবহ স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সঠিক, সাড়ে ১৫ বছর ফ্যাসিবাদ শাসনের বিরুদ্ধে আমরা যারা বিরোধী ছিলাম তারা দফায় দফায় আন্দোলন করেছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে যায়নি। যেদিন এই তরুণ-তরুণীরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সামনে এসেছিল, জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছিল। সকলে রাস্তায় নেমে এসেছিল। আন্দোলন সেদিনই সফলতার মুখ দেখেছিল। এখন সরকারি দলের বন্ধুরা তাদের কাউকে বলে শিশুপার্টি, আর কাউকে বলে গুপ্ত। লজ্জা। যাদের কারণে আপনাদের এই গদি, তাদের আপনারা উপহাস করছেন। এর পাওনা বুঝে নেওয়ার জন্য তৈরি হোন। এই জাতি ঠিকই পাওনা বুঝিয়ে দেবে আপনাদের।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা সব বিষয়ে কথা বলব। সংসদে কথা বলতে অনুমতি লাগে। যদি সংসদে কথা বলতে দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা ওখানে চলে আসব যেখানে কথা বলতে কারও অনুমতি লাগবে না। আমরা তখন জনগণের পার্লামেন্টে চলে আসব।’
এ সময় পদ্মা ও তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘পদ্মা এবং তিস্তার কারণে বাংলাদেশের চারভাগের একভাগ প্রায় মরুভূমি হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের প্রথম সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিনের জন্য ফারাক্কা বাঁধ চালানোর সুযোগ দিয়েছিল। ৫৫ বছরেও ১৫ দিন শেষ হয়নি। ইতিমধ্যে পদ্মা শুকনো মৌসুমে মরুভূমি। আর বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের কারণ। এখন পানি দরকার, পানি নাই। সরকারকে আমরা সাধুবাদ জানাই, ইতিমধ্যে পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা যেন লোকদেখানো না হয়। এই ঘোষণা যেন বাস্তবে রূপ নেয়।’
সমাবেশে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিডি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ (বীর বিক্রম), জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক রফিকুল ইসলাম খান এমপি। মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী ইমাজ উদ্দিন মন্ডল সমাবেশ পরিচালনা করেন।
আই/এ