মার্কিন অবরোধ তুলে নিলে এবং যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হলে হরমুজ প্রণালি আবারও খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত পিছিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয় বাদ দিয়ে কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি বলেন, এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না যাতে ভবিষ্যতে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চলমান থাকলেও হরমুজ প্রণালি নিয়ে অচলাবস্থা বজায় রয়েছে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত করে দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখা।
অন্যদিকে, প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি, খাদ্য ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
প্রস্তাবের বিষয়ে অবগত কর্মকর্তারা জানান, ইরান আগে অবরোধ প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের সমাপ্তি নিশ্চিত করতে চায়। এরপর পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা এগোতে পারে। তবে এ অবস্থান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রুশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানি জনগণের ‘সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াই’-এর প্রশংসা করেছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইরান চাইছে ওমানকে সঙ্গে নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল বা ফি আদায়ের ব্যবস্থা চালু করতে। তবে এ বিষয়ে ওমানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দাবি করেছেন, ইরান আগের তুলনায় ‘অনেক ভালো’ একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদিও তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
এমএ//