যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌ রুট হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। রোববার (১৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের প্রতিক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির রেভল্যুশনারি গার্ড নৌবাহিনী জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই প্রণালি বন্ধই থাকবে।
ইরান সতর্ক করে বলেছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে অবস্থানরত কোনো জাহাজ যেন নোঙর ছেড়ে না চলে এবং প্রণালীর দিকে অগ্রসর হওয়া শত্রুর সহযোগিতা হিসেবে গণ্য হবে। এমন পদক্ষেপকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তারা।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এর বন্ধ হয়ে যাওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যুদ্ধ চলমান অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে।
এদিকে, ব্রিটিশ সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানের গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজে গুলি চালিয়েছে এবং একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় কিছু কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে ভারত সরকারও তাদের পতাকাবাহী জাহাজে গুলির ঘটনায় ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর থেকে একাধিক জাহাজকে ইরানে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। তাদের মতে, এই অবরোধ ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার কৌশল।
চলমান যুদ্ধের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, উভয় পক্ষের এমন কঠোর অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনার চেষ্টা চললেও এখনো পর্যন্ত বড় কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে তেহরানকে আলোচনায় বাধ্য করতে চাচ্ছে। ফলে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যাচ্ছে।
এমএ//