তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৬ এপ্রিল) ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রের গুলিতে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে আটজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও বিবিসি জানায়, কাহরামানমারাস প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্তফা আলি ইয়ারলিকায়া সাংবাদিকদের বলেন, এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত হামলা, এর সঙ্গে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে অভিযুক্ত ছাত্র নিজেই গুলি করে আত্মহত্যা করে। প্রদেশটির গভর্নর জানান, অষ্টম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থী তার ব্যাগে করে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে আসে। ধারণা করা হচ্ছে, অস্ত্রগুলো তার সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা বাবার।
গভর্নরের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী পঞ্চম শ্রেণির দুটি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে নির্বিচারে গুলি চালায়। তুরস্কে সাধারণত ১০ থেকে ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করে।
তুরস্কে এ ধরনের স্কুলে বন্দুক হামলা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তবে চলতি সপ্তাহে এটি দ্বিতীয় এমন হামলা, যা নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা নেয়া হবে।
দেশটির গণমাধ্যম এনটিভি জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, তুরস্কে অস্ত্র বহনের ক্ষেত্রে কঠোর আইন রয়েছে; ২১ বছরের বেশি বয়সী লাইসেন্সধারীরা অস্ত্র রাখতে পারেন। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু যাচাইবিহীন ভিডিওতে দেখা গেছে, গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে শিক্ষার্থীরা স্কুল ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে লাফিয়ে নিচে নামছে। সিসিটিভি ফুটেজেও হামলাকারীকে করিডোর দিয়ে হেঁটে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালাতে দেখা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সানলিউরফা প্রদেশে আরেকটি বন্দুক হামলায় এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ অন্তত ১৬ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর হামলাকারীও আত্মহত্যা করে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
এসি//