শুক্রবার ভোরে প্রথমে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। ঘটনাটির পর ওই বিমানের পাইলটকে উদ্ধারের জন্য ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালাতে স্থানীয় বেসামরিক নাগরিকদেরও সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এরপর আরও একটি মার্কিন বিমান উপসাগরীয় অঞ্চলে, হরমুজ প্রণালীর কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। ইরানি সামরিক বাহিনীর দাবি, সেটিকেও তারা গুলি করে ভূপাতিত করেছে। ওই বিমানটি ছিল এ-১০ ওয়ারথগ ধরনের একটি যুদ্ধবিমান। এই ঘটনাতেও পাইলটদের খুঁজে বের করতে উদ্ধার তৎপরতা চলছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাগুলো অত্যন্ত গর্ব ও উদ্দীপনার সঙ্গে প্রকাশ করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে উদযাপনে অংশ নিতে দেখা গেলেও, শুক্রবারের ঘটনার পর সেই উদ্দীপনা আরও বেড়েছে বলে জানানো হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রথম থেকেই তারা যে “অপ্রকাশিত সক্ষমতার” কথা বলে আসছিল, এই ঘটনাগুলো তারই প্রতিফলন। তাদের মতে, এখনও পর্যন্ত ব্যবহার না করা সামরিক সক্ষমতা সামনে আনা হয়েছে, যা যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে হামলা অব্যাহত থাকবে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর জবাব দিতে প্রস্তুত। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও ইরানি সেনাবাহিনীর সক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করায় যুক্তরাষ্ট্র ভুল করেছে বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, এই সংঘাতে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ও ড্রোনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, যার মধ্যে কিছু সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানি পক্ষের ভাষ্য, এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করছে যে তারা দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত তারাই সফল হবে বলে তারা বিশ্বাস করে।
এসি//