কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়াই সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এগারসিন্ধুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রশাসক ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী সরকারের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনজন ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে সাদা চেকে স্বাক্ষর নিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, সরকারি বরাদ্দ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদে ১০ লাখ টাকা আসে। এ অর্থ দিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষ সংস্কারসহ চারটি গ্রামীণ সড়ক মেরামতের জন্য পাঁচটি প্রকল্প দেখানো হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, এসব প্রকল্পের বেশিরভাগই বাস্তবায়ন হয়নি বা আংশিক কাজ হয়েছে।
সরেজমিনে 'বাহাদিয়া এরশাদের বাড়ি থেকে মহিবুরের বাড়ি পর্যন্ত ইটের সলিয়াং নির্মাণ' প্রকল্পে গিয়ে দেখা যায়, দুই মাস আগেই এখানে ইটের রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। আগে থেকে সড়ক নির্মিত থাকলেও নতুন প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে।
ওই প্রকল্পের সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার গোলাম মোস্তফা বলেন, ' এই রাস্তাটি দুই মাস আগে করা হয়েছে। এখানে নতুন করে রাস্তা নির্মাণের কিছু নেই।' তাকে এই প্রকল্পের সভাপতি করা হয়েছে সেটি জানেননা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাহাদিয়া ফজর আলীর বাড়ি থেকে রফিকের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার এবং চর দেওকান্দি জামে মসজিদ থেকে নসিবাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সরকার প্রকল্পের সভাপতি ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ আবুল কাশেম জানান, একটি প্রকল্পের কাজ করা হবে বলে আমার কাছ থেকে ব্যাংকের সাদা চেকে স্বাক্ষর নেন প্রশাসক মোঃ ইদ্রিস আলী। কত টাকার কাজ সেটিও আমাকে জানানো হয়নি। পরে জানতে পারি আমার নামে চার লাখ টাকার দুটি প্রকল্প দাখিল করে প্রশাসক নিজেই টাকা উত্তোলন করে নেন।
৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ খোরশেদ উদ্দিন জানান, চেয়ারম্যানের কক্ষ রঙ করার কথা বলে তার কাছ থেকেও সাদা চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তিনি জানান, ‘কত টাকার কাজ করা হবে সেটি আমাকে বলা হয়নি। পরে জানতে পারি চেয়ারম্যানের কক্ষ রং করার জন্য দুই লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে।‘
এদিকে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসক তা গোপন করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসক মো. ইদ্রিস আলী সরকার বলেন, ' ঈদের মাত্র কয়েকদিন আগে টাকা বরাদ্দ পাই। এজন্য তড়িঘড়ি করে টাকা ব্যাংক থেকে উঠিয়ে একজনের কাছে জমা রাখা হয়েছে।'
তিনি বলেন, দুটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাকিগুলোর কাজ শেষ করা হবে।'
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূপম দাস জানিয়েছেন, ' প্রকল্পের সরকারি টাকা আত্মসাৎ এর কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমএ//