পটুয়াখালীর বাউফলে তরমুজবোঝাই ট্রলার ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগে চাঁদাবাজির মামলায় মো. অলিউল্লাহ ওরফে অলি (৪৩) নামের এক উপখাদ্য পরিদর্শককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অলিউল্লাহ মির্জাগঞ্জ খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে উপখাদ্য পরিদর্শক পদে কর্মরত আছেন। তিনি বাউফল উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কচুয়া গ্রামের হারুন মুন্সির ছেলে তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রাত ১০টার দিকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ ২৭ মার্চ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) আতিকুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী ও ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার কয়েকজন কৃষক দীর্ঘদিন ধরে বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে জমি বর্গা নিয়ে তরমুজ চাষ করে আসছেন। চলতি মৌসুমে তারা ওই এলাকায় তরমুজ চাষ করেন।
তরমুজ চাষের পর থেকে ওই জমি অলিউল্লাহ নিজের দাবি করে তরমুজ কেটে নিতে হলে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ১৬ মার্চ চাষিরা প্রায় ৯ হাজার তরমুজ কেটে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে তুলে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে অলিউল্লাহর নেতৃত্বে তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রসহ সেখানে উপস্থিত হয়ে আবার ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
এসময় চাষিরা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে অলিউল্লাহ ও তার লোকজন তরমুজবোঝাই ট্রলার দুটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রফা করে তরমুজবোঝাই একটি ট্রলার ফিরিয়ে দেন। আরেকটি তরমুজবোঝাই ট্রলার অলিউল্লাহর লোক আটকে রাখে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আরব আলী বাউফল থানায় উপখাদ্য পরিদর্শক মো. অলিউল্লাহকে প্রধান আসামি করে, ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা করেন।
আই/এ