ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্ব ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনিকে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় তেহরানে তার বাবা নিহত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন নেতা ঘোষণার পরই ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি), সামরিক বাহিনী এবং শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি দেশবাসীকে নতুন নেতার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। একইভাবে পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।
মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা সরাসরি জনভোটে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে কাজ করেছেন। আইআরজিসির সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তার নেতৃত্বে ইরানে কঠোরপন্থী গোষ্ঠীর প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সর্বোচ্চ নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতি তার বাবার মতোই কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। ফলে চলমান উত্তেজনা দ্রুত প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য, ইরানকে প্রায় ৩৭ বছর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রেরও সম্মতি থাকা উচিত। তবে ইরানের কর্মকর্তারা এ মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে জানান, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কেবল ইরানের জনগণই।
এমএ//