সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি অয়েল ডিপো থেকে হঠাৎ করেই জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ডিপো থেকে ডিলারদের কাছে তেল দেওয়া বন্ধ থাকায় পাম্প মালিক ও ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এতে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে সাপ্তাহিক ছুটির কারণে সরবরাহ বন্ধ থাকার পর আবারও ডিপো থেকে জ্বালানি তেল বিতরণ শুরু হয়। তবে আগের দিনের তুলনায় এদিন সরবরাহ অনেক কম ছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ডিপো সূত্র, পাম্প মালিক ও ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের নির্দেশনা অনুযায়ী রেশনিং পদ্ধতিতে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আওতায় যমুনা পেট্রোলিয়ামের মাধ্যমে ৫৫টি পাম্পে প্রায় ৪ লাখ লিটার ডিজেল এবং প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার লিটার পেট্রোল-অকটেন সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পদ্মা পেট্রোলিয়ামের ৪০টি পাম্প ও মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৪৯টি পাম্পে একই ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তবে তিনটি কোম্পানির মোট ১৪৪টি পাম্প জ্বালানি পেলেও বাঘাবাড়ি ডিপোর আওতাধীন রাজশাহী, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের প্রায় ২০টি জেলায় পাঁচ শতাধিক পাম্প রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ পাম্পই এদিন জ্বালানি পায়নি। পাশাপাশি কোনো ডিলারকেও তেল সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জ্বালানি না পাওয়া কয়েকজন ডিলার বলেন, তাদের কাছ থেকেই সাধারণত অনেক সেচ পাম্পে ডিজেল সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার তেল না পাওয়ায় সেচ মালিকদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে সেচ ব্যাহত হলে বোরো ধানের উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
জানা গেছে, এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই ডিপো থেকে প্রায় ৪৫ লাখ লিটার জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়েছিল।
আই/এ