দেশজুড়ে

সেচযন্ত্রের গর্ত থেকে স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ

যশোরের কেশবপুরে ধানক্ষেতের সেচযন্ত্রের গর্ত থেকে গত ৩১ অক্টোবর স্বামী-স্ত্রীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে পরকীয়া সম্পর্ক দেখে ফেলায় বিষয়টি গোপন রাখতে পরিকল্পিতভাবে ওই দম্পতিকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগম (৩৮) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর জেলা পুলিশের কনফারেন্স রুমে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম।

তিনি জানান,  গত ৩১ অক্টোবর বিকেলে কেশবপুর উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানক্ষেতে সেচযন্ত্রের গর্ত থেকে আলেক নুর ইসলাম ও তার স্ত্রী মাজেদা বেগম। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে কেশবপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।

গত ২ নভেম্বর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে জেসমিন বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার জেসমিন ও নিহত মাজেদা বেগম নওয়াপাড়া আকিজ জুট মিলে কাজ করতেন।

গত ৩০ অক্টোবর  মিল বন্ধ থাকায় সকালে বাড়ির কাজ শেষ করে জেসমিন ও মাজেদা ঘাস কাটতে মাঠে যান। এ সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলামও মাঠে কাজ করছিলেন। মাঠে যাওয়ার পথে জেসমিনের সঙ্গে মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির দেখা হয়।

পুলিশের দাবি, মোস্তফার সঙ্গে জেসমিনের প্রায় ৪-৫ মাস ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মাঠে জেসমিন ও মোস্তফাকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন মাজেদা। বিষয়টি প্রকাশের আশঙ্কায় মাজেদা ও তার স্বামী আলেককে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী কৌশলে আলেক ও মাজেদাকে ঘেরের পাশে নিয়ে যান তারা। একপর্যায়ে তালতলা এলাকার বেড়ির কাছে পৌঁছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলেকের শরীর ও মাথায় আঘাত করেন। অন্যদিকে, মাজেদার ওড়না  তার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জেসমিন। পরে মাজেদার মৃত্যু নিশ্চিত করতে কাঁচি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়।

একপর্যায়ে ২ জনের মরদেহ পুরোনো সেচযন্ত্রের গর্তে ফেলে দেওয়া হয়। নিহত আলেক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। আঘাতের পর গর্তে পড়ে যাওয়ায় তিনি আর সেখান থেকে উঠতে পারেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মোস্তফাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক মোস্তফা কামাল কেশবপুরের মাগুরখালি গ্রামের মৃত কিসমত সরদারের ছেলে।

 

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন