মিরপুরে সংঘর্ষের পর যান চলাচল স্বাভাবিক
রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ থামার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সংঘর্ষের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া মিরপুর-১১ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশনও পুনরায় চালু করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় অন্তত চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে আটককারীদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে পুলিশের সঙ্গে পোশাকশ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় এ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (পিওএম-দক্ষিণ) মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে সকালে মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে সংঘর্ষের রূপ নেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকজনকে পুলিশ আটক করে।
সংঘর্ষের জেরে মিরপুর-১১ থেকে মিরপুর-১০ ও পল্লবীগামী সড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এতে আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সড়কে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ তৌহিদুল আরিফ বলেন, পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে দুষ্কৃতকারীরা অনুপ্রবেশ করেছে। শ্রমিক নেতারা আগের দিন আমাদের জানিয়েছেন যে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসবেন। এরপরও যারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন, তারা মূলত শ্রমিক নন, বরং দুষ্কৃতকারী। যারা এখন আন্দোলনে নামবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মিরপুরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় একটি জলকামান ও দুটি সাঁজোয়া যান প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সদস্যদেরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।
এমজে/এ