চট্টগ্রাম বন্দরের কাজে জড়িত দুর্নীতিবাজদের ছাড় নেই : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কাজে জড়িত দুর্নীতিবাজদের ছাড় নেই।’
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদে ঢাকা পাঁচ আসন থেকে নির্বাচিত সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেছেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো কাজে দুর্নীতি হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে আইন অনুযায়ী দোষীদের অবশ্যই বিচার করা হবে। চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রের ও জনগণের সম্পদ, তাই রাষ্ট্রীয় সম্পদের যেকোনো অপচয় রোধ এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তার সরকার সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।’
প্রধানমন্ত্রীর কাছে মোহাম্মদ কামাল হোসনের প্রশ্ন ছিলো- জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এবং কাস্টমস হাউস চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার স্ক্যানার মেশিন ক্রয় এবং অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিগত ২০১৮ সালে চারটি স্ক্যানার মেশিন ক্রয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করে। এই টেন্ডারে ব্যাপক দুর্নীতি হয়, মামলা হয় এবং এই অভিযোগ এখনো চলমান। এ ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা না?
এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরটি দেশের সম্পদ। এটি একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ, জনগণের সম্পদ। এখানে কোনো কাজ করতে গিয়ে যদি দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেটি যখনই হয়ে থাকুক না কেন, অবশ্যই দেশের আইন অনুযায়ী যারা এর জন্য দায়ী তাদের বিচার অবশ্যই হবে।’
তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমাদের সরকারের (বিএনপি) প্রচেষ্টা থাকবে যেকোনো জায়গায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় যেন না হয়, এ লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে মুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তোলা।’
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের অপর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরের সক্ষমতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বের ও দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলা করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব মন্দা, কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ইত্যাদি সময়েও চট্টগ্রাম বন্দর ২৪৪৭ অপারেশনাল ছিল। এর ফলে ২০১০ সালে যেখানে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ছিল যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ৬৬৩ মে.টন এবং ১৩ লক্ষ ৪৩ হাজার ৪৪৮ TEUs (Twenty foot Equivalent Unit সেখানে ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১৩ কোটি ৮১ লক্ষ ৫১ হাজার ৮১২ মে.টন কার্গো এবং ৩৪ লক্ষ ০৯ হাজার ০৬৯ TEUs কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। বিগত বছরের তুলনায় ২০২৫ সালে কন্টেইনার, কার্গো এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং এ প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৪.০৭%, ১১.৪৩% এবং ১০.৫%।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে নতুন টার্মিনাল স্থাপনসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তন্মধ্যে, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) নির্মাণ ও অপারেশন চালু, লালদিয়া কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ এবং বন্দরের নাব্যতা রক্ষায় নিয়মিত ক্যাপিটাল ও মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ডিজিটাইলেজশনের অংশ হিসেবে যে সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইন পোর্ট কমিউনিটি সিস্টেম, ই-ডেলিভারি অর্ডার, ই-পেমেন্ট ও অটোমেশন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক ISPS Code অনুযায়ী আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বন্দর ব্যবহারকারীগণ কর্তৃক দ্রুত ও সহজে বন্দরের মাশুলাদি পরিশোধের জন্য অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম চালু করা হয়েছে। বন্দরে যানবাহন প্রবেশ সহজতর করার জন্য e-gate পাস চালু করা হয়েছে। Paperless port বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে CPA SKY, PORT SINGLE WINDOW চালু করা হয়েছে।
বন্দরের সামগ্রিক কার্যক্রমে Automation বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের ইক্যুইপমেন্ট সংকট কমাতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে নিম্নোক্ত ০৭টি কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
এছাড়াও ‘০৩টি ০৫ টন ফর্কলিফট (RRC) সংগ্রহের নিমিত্তে সরবরাহকারীর অনুকূলে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে। ০২টি খালি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ফর্কলিফট ও ০২টি ১০ টন ফর্কলিফট এর প্রাপ্ত দরপত্র মূল্যায়ন চলছে।’
এর আগে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকাল তিনটায় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথম ত্রিশ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্ব।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিলো ৭টি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। এরমধ্যে তিনি নির্ধারিত ত্রিশ মিনিটে তিনটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন ও এই সংক্রান্ত সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।