প্রতিশোধের স্বপ্ন দেখছে মরক্কো
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে এবার এমন এক ম্যাচের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব, যেখানে শুধু দুটি দলের লড়াই নয়, মুখোমুখি হবে ইতিহাস, আবেগ এবং নতুন এক ফুটবল বাস্তবতা।
আগামীকাল বস্টনে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ফ্রান্সের বিপক্ষে মাঠে নামবে মরক্কো। লক্ষ্য একটাই—আরও একটি জয়, আর তাতেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতিহাসের আরেকটি অধ্যায় লেখা।
শেষ ষোলোতে কানাডাকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। এখন তারা সেমিফাইনাল থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে। গোটা মরক্কো, আফ্রিকা, আরব বিশ্ব এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা লাখো সমর্থকের স্বপ্ন এখন এই দলটিকে ঘিরেই।
ফরাসি গণমাধ্যম অবশ্য ম্যাচটিকে অন্যভাবে দেখছে। তাদের বিশ্লেষণে বারবার ফিরে আসছে ২০২২ বিশ্বকাপের স্মৃতি, যখন সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। সেই কারণেই এবারের লড়াইকে অনেকেই ‘প্রতিশোধের ম্যাচ’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
কিন্তু মরক্কোর অনেক সমর্থকের কাছে এই ম্যাচের অর্থ শুধু প্রতিশোধ নয়। তাদের কাছে এটি আরও বড় এক প্রতীক। ঔপনিবেশিক ইতিহাসে জড়িয়ে থাকা দুই দেশের এই লড়াইকে অনেকেই দেখছেন আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা এবং বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান আরও দৃঢ় করার সুযোগ হিসেবে। তাই মাঠের ৯০ মিনিটের বাইরে ম্যাচটি বহন করছে এক ভিন্ন আবেগও।
কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠা অনেকের কাছেই ছিল রূপকথার গল্প। কিন্তু চার বছর পর সেই ধারণা বদলে গেছে। এবার আর কেউ মরক্কোকে অঘটনের দল বলছে না। বরং তারা নিজেদের এমন এক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে, যারা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষেও সমান আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারে।
২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকান এবং প্রথম আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। সেই অর্জন শুধু একটি দলের সাফল্য ছিল না; এটি ছিল পুরো আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের ফুটবলের জন্য এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। বহু সমর্থকের বিশ্বাস, দীর্ঘদিন ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার আধিপত্যে থাকা বিশ্ব ফুটবলে নতুন শক্তির উত্থানের সূচনা হয়েছিল তখনই।
এরপরের কয়েক বছরে সেই সাফল্যকে আরও দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছে মরক্কো। পরিকল্পিত ফুটবল উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, তরুণ খেলোয়াড় গড়ে তোলা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফল এখন মাঠে স্পষ্ট। উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে তারা আর চমক নয়; বরং প্রতিষ্ঠিত শক্তি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছে।
ফ্রান্সের জন্যও ম্যাচটি সহজ হবে না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর সক্ষমতা তাদের অন্যতম শক্তি। কিন্তু মরক্কো ইতোমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে, কাগজে-কলমের শক্তি দিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচের ফল নির্ধারণ করা যায় না।
তাই বস্টনের এই কোয়ার্টার-ফাইনাল শুধু সেমিফাইনালের একটি টিকিটের লড়াই নয়। এটি হবে বিশ্ব ফুটবলের পরিবর্তিত শক্তির ভারসাম্যেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। ২০২২ সালের অসমাপ্ত গল্পের নতুন অধ্যায়ে মরক্কো কি এবার ইতিহাস বদলাবে, নাকি ফ্রান্স আবারও থামিয়ে দেবে অ্যাটলাস লায়ন্সদের স্বপ্ন—সেই উত্তর মিলবে মাঠেই।
এসি//