মিশরের অভিযোগ নাকচ করলো ফিফা
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা–মিসর ম্যাচের রেফারিং নিয়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ফিফা। সংস্থাটির প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেছেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই।
একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আলোচিত ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো ফুটবলের আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় মিসর। ম্যাচ শেষে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তার পুরো রেফারিং দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে মিসর ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে তারা লেতেক্সিয়েকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানায়। একই সঙ্গে দলের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও অভিযোগ করেন, ম্যাচে আর্জেন্টিনা বিশেষ সুবিধা পেয়েছে।
হোসাম হাসান বলেন, ‘হয়তো তারা চেয়েছিল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক।’
এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বক্তব্যে কোলিনা বলেন, রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা ফুটবলের স্বাভাবিক অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই।
তার ভাষায়, ‘রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু প্রমাণহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা রেফারিদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এমন অভিযোগ অনেক সময় তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
রেফারিংয়ে বাইরের কোনো প্রভাব কাজ করে—এমন অভিযোগও সরাসরি নাকচ করে দেন কোলিনা। তিনি বলেন, ‘ফিফার রেফারিংয়ে কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারে না। এমনকি ফিফা সভাপতিও নয়।’
মিসরের আপত্তির মূল কেন্দ্র ছিল ম্যাচের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। প্রথমত, ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা অবস্থায় মারাওয়ান আতিয়ার ফাউলের কারণে ভিএআরের সহায়তায় মিসরের একটি গোল বাতিল করা হয়। পরে অবশ্য তারা আবার গোল করে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এ ছাড়া যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের আগে হামদি ফাথির ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ফাউলের অভিযোগ তোলে মিসর। একই সঙ্গে মোহাম্মদ সালাহকে হুলিয়ান আলভারেজ ফেলে দিলেও পেনাল্টি না দেওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা।
এসব অভিযোগের ব্যাখ্যায় কোলিনা বলেন, ভিডিও রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা গেছে, মারাওয়ান আতিয়া লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন। তাই সেটি আইন অনুযায়ী ফাউল।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ফাউল মানেই ফাউল। সেটি যত সামান্যই মনে হোক না কেন। যদি রেফারি মাঠে সেটি না দেখে থাকেন, তাহলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতেই পারে।’
গোল বাতিলের বিষয়ে তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, গোল হওয়ার আগে একই আক্রমণের ধারাবাহিকতায় কোনো ফাউল থাকলে ভিএআর সেটি পর্যালোচনা করে। প্রতিপক্ষের পায়ের ওপর পা রাখা স্পষ্ট ফাউল। তবে কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বলে স্পর্শ করেন এবং পরে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হয়, তাহলে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না।
মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টির দাবির বিষয়েও একই অবস্থান নেয় ফিফা। কোলিনার ভাষ্য, রেফারি এবং ভিএআর—দুজনই ঘটনাটিকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘মোহাম্মদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে যা হয়েছে, সেটি স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংস্পর্শ। সেখানে পেনাল্টি দেওয়ার মতো কোনো কারণ ছিল না।’
রেফারিং নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনাও আলোচনায় আসে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন। পরে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ফিফা। এ সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।
তবে সেই প্রসঙ্গেও কোলিনা স্পষ্ট করে বলেন, ফিফার রেফারিং ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবে পরিচালিত হয় না। তার দাবি, মাঠের প্রতিটি সিদ্ধান্তই ফুটবলের আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
এসি//