নরওয়ের গোলরক্ষককে ‘বেকুব’ বলেছেন নেইমার
নরওয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলে বিদায়ের ম্যাচে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল যেমন আলোচনায় ছিল, তেমনি শেষ বাঁশি বাজার আগে নেইমার ও নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নিলান্ডের সংক্ষিপ্ত কথোপকথনও কেড়ে নিয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের নজর। ম্যাচের উত্তেজনাপূর্ণ সেই মুহূর্তের সংলাপ পরে প্রকাশ করেছে ব্রাজিলের একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান।
ঘটনাটি ম্যাচের একেবারে শেষ দিকে। কাসেমিরোকে ফাউল করায় পেনাল্টি পায় ব্রাজিল। স্পট কিক নিতে যাওয়ার আগে নেইমার সরাসরি নিলান্ডের কাছে গিয়ে মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার চেষ্টা করেন।
প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে উদ্দেশ্য করে নেইমার বলেন, “পেনাল্টিটা কোন দিকে মারব? তুমি কোন দিকে চাও?”
তবে পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলা নিলান্ড একটুও বিচলিত হননি। শান্তভাবেই তিনি জবাব দেন, “পোস্টে মারো, পোস্টে মারো।”
নিলান্ডের উত্তর শুনে নেইমার আবার বলেন, “আমার সঙ্গে এসব চলবে না। আমার সঙ্গে না। বেকুব!”
শেষ পর্যন্ত নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করতে সফল হলেও সেটি ব্রাজিলকে আর ম্যাচে ফেরাতে পারেনি।

বরং ম্যাচের শুরুতেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছিলেন নরওয়ের এই গোলরক্ষক। ১৪তম মিনিটে ব্রুনো গিমারাইসের নেওয়া পেনাল্টি অসাধারণ দক্ষতায় ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন নিলান্ড। সেই সেভই ম্যাচের শুরুতে নরওয়েকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস এনে দেয়।
শুধু পেনাল্টি রুখেই নয়, পুরো ম্যাচজুড়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্রাজিলকে হতাশ করেছেন তিনি। আর্লিং হালান্ড শেষ দিকে জোড়া গোল করে নায়ক হয়ে ওঠার আগে পর্যন্ত নরওয়েকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ছিল নিলান্ডের।
অন্যদিকে, শেষ বাঁশি বাজার পর নেইমারের চোখে ছিল হতাশার অশ্রু। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।
এই পরাজয়ের ফলে আরও দীর্ঘ হলো ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শিরোপা-খরা। ১৯৭০ সালের শিরোপার পর ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত টানা ২৪ বছর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি সেলেসাওরা। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর আবারও কেটে গেছে ২৪ বছর। সেই অপেক্ষার অবসান ঠিক কবে হবে, তার উত্তর এখনো অজানাই রয়ে গেল।
এসি//